প্রধান শিক্ষকের বাণী

প্রধান শিক্ষকের বাণী

সকল প্রশংসা একমাত্র মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য যিনি আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন কলমের মাধ্যমে। অগণিত দরুদ ও সালাম শেষ নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা:) এর উপর।

মানব সৃষ্টির সূচনা থেকেই শিক্ষার প্রচলন শুরু। পৃথিবীতে মানুষকে যথাযথ প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও সভ্যতা শিখানোর নিমিত্তে অসংখ্য নবী-রাসূলের আগমন ঘটে। হযরত রাসূলুল্লাহ (সা:) এর আগমনের মাধ্যমে এই ধারাবাহিকতা পূর্ণতা পায়। পৃথিবীতে শিক্ষা ব্যবস্থার ইতিহাস খুঁজতে গেলে দেখা যায় যে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থার সূচনা হয়েছে মসজিদকে কেন্দ্র করে। আদর্শ নাগরিক ও উন্নত চরিত্র গঠনের জন্য হযরত রাসূলুল্লাহ (সা:) মসজিদে নববীতে একটি বিদ্যাপীঠ প্রতিষ্ঠা করেন। ইতিহাসে যা আসহাবে সূফ্ফা নামে প্রসিদ্ধ।

দুনিয়ার সমস্ত অপকর্মের মূল হলো অজ্ঞতা। এ অজ্ঞতা দুর করার জন্য আল্লাহ তায়ালা কুরআনে সর্বপ্রথম যে বাণী নাযিল করেছেন তা হলো  اِقْرَأ (ইকরা) অর্থাৎ পাঠ করো। এর মর্মার্থ হচ্ছে প্রথমে জ্ঞান অর্জন করতে হবে আর সেটা এমন জ্ঞান যা দ্বারা রবের পরিচয় পাওয়া যায়। যেমন ইরশাদ হচ্ছে اِقۡرَأۡ بِاسۡمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ   (পড় তোমার প্রভুর নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন) সুতরাং ইলমে দ্বীন শিক্ষা করা বিশেষ করে দ্বীনের প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর উপর ফরয। যাতে করে কুরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক জীবন যাপন করে ইহকালের কল্যাণ ও পরকালের নাজাহ হাসিল করা যায়। একমাত্র সহীহ দ্বীন শিক্ষার দ্বারাই হালাল-হারাম, ন্যায়-অন্যায় এর পার্থক্য নির্ণয় করত: সকল প্রকার ভ্রান্তি পরিহার করে ঈমান ও আমলের পথে জীবন পরিচালনা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জন করা যায়। জীবন চলার পথে প্রয়োজনীয় দ্বীনি ইলম শিক্ষা করা একজন পুরুষের জন্য যতটুকু গুরুত্বপূর্ণ, একজন নারীর জন্যও ঠিক ততটুকুই অপরিহার্য়। যাতে করে মুসলমানদের প্রতিটি ঘর হয় এক একটি দ্বীন শিক্ষার বিদ্যাপীঠ। প্রতিটি মায়ের কোল হয় শিশুর দ্বীন শিক্ষার সুতিকাগার। ধর্মীয় অনুশাসন সমৃদ্ধ পর্দা ঘেরা নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন আবাসন ব্যবস্থা, আধুনিক শিক্ষা ও দ্বীনি শিক্ষার সমন্বয়ে বাস্তবমুখী সিলেবাসে উন্নত মানের শিক্ষা ব্যবস্থা সংবলিত ব্যতিক্রমধর্মী একটি প্রতিষ্ঠান আমাদের অনেকেরই প্রত্যাশা। দ্বীনদার, স্বাবলম্বী ও রুচিশীল ব্যক্তিবর্গের প্রত্যাশা ও চাহিদাকে সামনে রেখেই ‘‘জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মহিলা মাদরাসা’’এর প্রতিষ্ঠা।

অপরদিকে বিশ্বায়নের এই যুগে একবিংশ  শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং যুগের চাহিদা পূরণে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান সম্পন্ন সাধারণ শিক্ষার প্রয়োজনও অপরিসীম। যার ফলে আমরা কিন্ডারগার্টেন, প্রি ক্যাডেট স্কুল, প্রিপারেটরী স্কুল, ক্যান্ট: পাবলিক স্কুলসহ জাতীয় শিক্ষাক্রম ও নূরানী তালীমুল কুরআন বোর্ডের আরবী পাঠ্যপুস্তকের সমন্বয়ে জামিয়া দারুল উলূম মহিলা মাদরাসার একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠন করেছি ‘‘আন-নূর শিশু একাডেমি’’ নামে একটি শিশুশিক্ষা কেন্দ্র। যা মূলত শিশু বান্ধব কিন্ডারগার্টেন এর আদলে পরিচালিত। একমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা করে সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে গড়া প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রায় আপনার অংশগ্রহণ, পরামর্শ ও দোয়া আমাদের একান্ত কাম্য।

প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক

মুফতি তাওহীদুল ইসলাম কাসেমী

পরিচালক, মদিনাতুল উলূম কুরআন নিকেতন, ঘাটাইল, টাঙ্গাইল।

পরিচালক, আল-মাহমুদ হিফজ মাদরাসা, ধউর, তুরাগ, ঢাকা।

ইমাম ও খতিব, বাইতুল খান জামে মসজিদ, ধউর, তুরাগ, ঢাকা।